মুস্তাফিজুর রহমান (ক্রিকেটার)
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মুস্তাফিজুর রহমান
জন্ম ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫ (বয়স ২০)
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাংলাদেশ
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরণ - বামহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরণ - বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকা বোলার
সম্পর্ক আবুল কাসেম গাজী (বাবা)
মাহফুজা খাতুন (মা)
মাহফুজার রহমান (বড় ভাই)
মোখলেছুর রহমান পল্টু (সেজো ভাই)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
বাংলাদেশ
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৭৮)২১ জুলাই ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২১ জুলাই ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ১১৮)১৮ জুন ২০১৫ বনাম ভারত
শেষ ওডিআই১১ নভেম্বর ২০১৫ বনাম জিম্বাবুয়ে
ওডিআই শার্ট নং৯০
টি২০আই অভিষেক২৪ এপ্রিল ২০১৫ বনাম পাকিস্তান
শেষ টি২০আই৭ জুলাই ২০১৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০১৫-বর্তমানদক্ষিণাঞ্চল
২০১৫-বর্তমানআবাহনী লিমিটেড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতাটেস্টওডিআইটি২০আইএফসি
ম্যাচ সংখ্যা২৬৩১২
রানের সংখ্যা৩৯১১৯
ব্যাটিং গড়৩.০০৯.০০০.৫০৪.৭৫
১০০/৫০-/--/--/-০/০
সর্বোচ্চ রান৩৯১১৪
বল করেছে১৩৬৩২০৭২১৪৯৬
উইকেট৪১৮৩৩২
বোলিং গড়১৪.৫০১২.৬১২৮.০০২০.৩৪
ইনিংসে ৫ উইকেট–২–১
ম্যাচে ১০ উইকেট–-–০
সেরা বোলিং৪/৩৭৬/৪৩২/২০৫/২৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং-/-১/–-/–২/–
উত্স: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ৩ আগস্ট ২০১৫
মুস্তাফিজুর রহমান (জন্ম: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫) সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটার।[১][২] বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে দলে তিনি বাহাতি মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। বিশ্বের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তার প্রথম দুই ম্যাচে এগারোটি উইকেট লাভ করেন।[৩] ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আবাহনী লিমিটেড, খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
আইসিসি ঘোষিত ২০১৫ সালে আইসিসি বর্ষসেরা দলে অন্তর্ভূক্ত হন।[৪]
প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা
তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বামহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ২০১২ সালে ফাস্ট-বোলারদের ক্যাম্পে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। নিজ শহর সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় চমকপ্রদ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এরপর তাকে বিসিবি’র পেস ফাউন্ডেশনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকাকালীন দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের জন্যও তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে খুলনার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে আট উইকেট লাভ করেন। এরফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ এ দলের সফরে অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। এ সংক্ষিপ্ত সফরের পর অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে তিনি বিবেচিত হন ও ধীরে ধীরে বলের বৈচিত্র্যতা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হন। শুরুতে তার বলে পেস কম থাকলেও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৯.০৮ গড়ে ২৬ উইকেট দখল করেন।
নিজ পরিবারের সাথে মুস্তাফিজুর
খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা
টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকসম্পাদনা
ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্র্রদর্শন করায় ২৪ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে সফরকারী পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে একমাত্র টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে তাকে দলের সদস্য করা হয়। খেলায় তিনি শহীদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজের উইকেট পান। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।[৫] খেলায় বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে।
একদিনের আন্তর্জাতিকসম্পাদনা
এর দুইমাস পর ১৯ জুন, ২০১৫ তারিখে সফরকারী ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তার একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে। অভিষেক ম্যাচেই তিনি ৫ উইকেট লাভ করেন এবং ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। তার পরে ২১ জুনেও ভারতের বিপক্ষে ৪৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। জীবনের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন৷ ব্রায়ান ভিটোরি’র পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে প্রথম দুইটি ওডিআইয়ে পাঁচ-উইকেট লাভের বিরল কীর্তিগাথা রচনা করেন মুস্তাফিজুর।
মুস্তাফিজুর তার প্রথম দুইটি ওডিআইয়ে ৫/৫০ ও ৬/৪৩ লাভ করেন। তার এ ক্রীড়ানৈপুণ্যে ওডিআইয়ের ইতিহাসেব যে-কোন বোলারের তুলনায় সেরা। তার এ অসম্ভব বোলিংয়ের ফলে ২০১১ সালে জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরি’র বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫/৩০ ও ৫/২০ ম্লান হয়ে যায়। ভারতকে তিনি তৃতীয়বার ২০০ বা তার নীচে রান তুলতে বাধ্য করান। এরফলে বাংলাদেশ পঞ্চমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয় পায়। এ জয়ে বাংলাদেশ আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে ৭ম স্থানে উত্তরণ ঘটায়। দ্বিতীয় ওডিআইয়ে মুস্তাফিজুরের ৬/৪৩ বোলিং পরিসংখ্যান বাংলাদেশী বোলারদের মধ্য